নিজেকে ৪ টি প্রশ্ন করুন – যদি আপনি এবছরেই সফল হতে চান

প্রতি বছর ৩১শে ডিসেম্বর এবং ১লা জানুয়ারি এই দুই দিনে আমরা প্রায় সবাই বিপরিত মুখী দুইটা চিন্তা করে থাকি। আর তা হল ৩১শে ডিসেম্বরে চিন্তা করি ইসসস আর একটা বছর চলে গেল জীবন থেকে, কত পরিকল্পনা ছিল কিন্তু কিছুই কর হল না। আর বছরের প্রথম দিন চিন্তা করি গত বছরে যা করতে পারিনি এবছর তা করে ফেলবো। কিন্তু তারপর সেই আগের মত করে সময় বয়ে যায়, লক্ষ্য ঠিক থাকে কিন্তু সেই লক্ষ্যে আর পৌঁছানো হয় না। তাই চলুন আজ থেকেই শুরু করি নিজের লক্ষ্যের প্রতি এগিয়ে চলা। এই ২০১৮ সালকে সফল করার জন্য আপনার কাছে এখনও অনেকটা সময় আছে। এখন আপনি আপনার জীবনের সবথেকে বড় উদ্দেশ্যটা ঠিক করে ফেলুন এবং সঠিক লক্ষ্যে সফল হতে কাজ শুরু করুন আজ থেকেই। উদ্দেশ্যটা হতে পারে আপনার অন্যের অধীনে একঘেয়েমি চাকরি থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা অথবা নিজের আয় উপার্জনের বিকল্প রাস্তা তৈরি করা। হতে পারে নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত কোন ইচ্ছা পুরন করা বা অন্য যে কোন কাজে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। আপনার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য যদি সঠিক পরিকল্পনা না থাকে তাহলে আপনি কি সফল হতে পারবেন?

আপনি দেখতে পাচ্ছেন চারদিকে বিনিয়োগ করার চমৎকার চমৎকার সুযোগ আসছে এবং আসে পাশের অনেকেই সম্ভাব্য উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেদেরকে তৈরি করছে। কিন্তু রাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপেক্ষিতে আপনি এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছেন। সারাক্ষণ আপনার মন বলছে ব্যবসা বানিজ্য বা নিজের প্রতিষ্ঠান শুরু করার জন্য এটা ভাল সময় না। মার্কেটের অবস্থা খুব খারাপ এবং যেই নতুন কিছু শুরু করেছে সেই ধরা খেয়েছে। আর এই সব চিন্তা থেকেই বেশির ভাগ মানুষ তাদের মাথায় অভাবনীয় চমৎকার পরিকল্পনা থাকার পরও হাল ছেড়ে দেয় ।তারপর অন্য আর ১০ জনের মত পরের অধীনে স্বল্প আয়ের ৯টা ৬টা চাকরির জীবন বেছে নেয়।

কিন্তু না, আপনি হয়তো তাদের দলের কেউ না, অবহেলায় জীবন থেকে যতটা বছর যাবার তাতো গেছেই। তাই চলুন না এবছর লক্ষ্য পূরনের জন্য একটু ভিন্ন ভাবে চেষ্টা করি। দেখবেন বছর শেষে ঠিকই আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন। তারপর আগামী বছর থেকে সেই সফলতা শুধু ঊর্ধ্ব মুখিই হবে। এতদিন যে সফলতা আসেনি পরিকল্পনা করে আগ্রসর হলে নিশ্চয় তা ধরা দেবে। আপনার জীবনে সফলতা আসবেই যদি আপনি ভবিষ্যৎ লক্ষ্যে অটল থাকেন। শুধু অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনার সামনের জীবনের সুখ-দুঃখ, সফলতা, ব্যর্থতা এগুলো নির্ধারিত হবে আপনার আজ এবং আগামী কালকের কাজে; গত দিনের কাজের জন্য নয়। এখানে ৪টি প্রশ্ন আছে, এই চারটি প্রশ্ন নিজেকে করে দেখুন উত্তর খুজে পান কি না।যদি আপনার কাছে উত্তর থাকে তাহলে আপনি আপনার লক্ষ্যের চুড়ায় সফল ভাবে উঠতে পারবেন এবং সেটা হতে পারে এবছরেই।

১। বছর শেষে আপনি নিজেকে ঠিক কোথায় দেখতে চান?

আমাদের সবার ভিতরে একটা প্রবণতা আছে আর তা হল কোন প্রকার সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া আমরা আমাদের দিন পার করতে থাকি আর চিন্তা করতে থাকি কীভাবে শুরু করবো আর কীভাবে জীবনের লক্ষগুলো পূরণ করবো? আমাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকে কিন্তু সফল হতে পারি না শুধু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে। ঠিক একটা বাড়ি বানানোর মত করে, প্রতিটা ধাপে ধাপে পরিকল্পিত প্রচেষ্টার ফলেই বাড়ি টি নিশ্চিত ভাবে বানানো শেষ হবে। এবং অবশ্যই তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে। তাই এখনই পরিকল্পনা করে ফেলুন বছর শেষে আপনি নিজেকে ঠিক কোথায় দেখতে চান?

“সফল মানুষরা তাই করে যা ব্যর্থ মানুষরা সচরাচর করতে চায় না, কখনো চিন্তা কোরো না সব কিছু সহজ হবে, চিন্তা কর তুমি সবার থেকে ভালভাবে করতে পারবে” – জিম রন

২। আপনার সম্পদ আপনি কোথায় খরচ করবেন?

প্রায়ই আমরা নিজেকে বলে থাকি যে আমার স্বপ্ন পূরণ বা লক্ষ্যে পূরণের জন্য আমার কাছে যথেষ্ট পরিমানে অর্থ বা টাকা পয়সা নাই। এটা খুবই সত্যি কথা যে আপনার অর্থ সম্পদ সীমিত। কিন্তু এটিই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে লক্ষ্য পূরণের জন্য আপনার পরিশ্রম এবং আপনার এই সীমিত অর্থ আপনি কোথায় খরচ করবেন। আপনি এক সাথেই আপনার সমস্ত লক্ষ্য গুলি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন না, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সময়, শক্তি এবং অর্থ বিনিয়োগ করুন আপনার ঐ উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যে যা থেকে আপনার ফলাফল আসবে সব থেকে আগে। মনে রাখবেন, সব লক্ষ্যের অর্থমূল্য বা উপযোগিতা এক না।

৩। আপনার সফল হওয়ার এবং জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য পূরণের জন্য কত সময় প্রয়োজন?

বেশিরভাগ লোক প্রশ্নটি করে, উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করবো কিন্তু তার আগে প্রস্তুতির জন্য কত সময় নিব। আরে এভাবে চিন্তা করলে তো আপনি কাজই শুরু করতে পারবেন না। তার থেকে যদি চিন্তা করেন সফল হওয়ার জন্য এবং লক্ষ্য পূরণের জন্য আমার কত সময় প্রয়োজন, তাহলে আপনি দ্রুত সফলতা পাবেন। এখানে আপনি সময়ের উপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ আপনার কাঙ্ক্ষিত সফলতার অবশ্যই একটি কাঙ্ক্ষিত সময় সীমা আছে এবং সেই সময়ের ভিতরে আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য আপনাকে আরও অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে। এখন সময় আপনার সবথেকে বড় শত্রু এবং আপনাকে আপনার সর্বচ্চ দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।  এখনে মূল কথা হল আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে একসাথে কত বেশি কাজ শেষ করছেন। একসাথে যত বেশি কাজ করবেন ততো তাড়াতাড়ি আপনার জীবনে সফলতা আসবে।

“হারানোর ভয় কে কখনো জয়ী হবার আনন্দ থেকে বড় হতে দিও না।” – রবার্ট কিওসাকি

৪। আপনার পরিকল্পনায় কাজ না হলে আপনি কি করবেন?

আপনার লক্ষ্য অর্জন তখনই হবে যখন কোন কাজ শুরু করার পর সেটা একনিষ্ঠ ভাবে শেষ পর্যন্ত করে যেতে পারবেন। এজন্য কোন পরিকল্পনা সফল হবে না যদি সেখানে উদ্দেশ্যের প্রতি আগ্রহ এবং একাগ্রতা না থাকে। করি, করব, করছি বা পরে করি, আজ না হয় পরে হবে এই মন-মানুসিকতা ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু তারপরও কথা থাকে, আপনি আপনার সর্বচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে গেলেন। কিন্তু আপনার সামনে শুধু বাধা আর বাধা তখন কি করবেন? তখন কি আগের লক্ষ্যের থেকে পিছু পা হবেন ? তারপর নতুন লক্ষ্যের প্রতি আবার মনোযোগী হবেন? নাকি আপনি আপনার সর্বচ্চ পরিশ্রম আর অর্থ সেই লক্ষ্যের পিছনে ব্যয় করে যাবেন? আপনি এখনই ” যদি কাজ না হয়” অবস্থার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিন, তাহলে আপনার সামনে বিকল্প রাস্তা থাকবে যা আপনার জীবনে সফলতা আনবে, লক্ষ্য অর্জিত হবে।

সুতরাং, আপনার জন্য এই চারটি সহজ প্রশ্ন থাকলো। আপনি যদি এই বছর, এই ২০১৮ সালে সফল হতে চান বা কোন উদ্দেশ্য পূরণ করতে চান তাহলে প্রশ্ন গুলো নিজেকে করুন এবং উত্তর খুজে বের করুন। আপনি যদি এই চারটি প্রশ্নের প্রতি মনোযোগী হয়ে আপনার লক্ষ্যের দিকে পা বাড়ান তাহলে দেখবেন জীবনে সফলতা এমন ভাবে ধরা দেবে যা আপনি আগে কখনো চিন্তাও করেননি। জীবনের উদ্দেশ্যটাকে একটা দালানের মত করেই চিন্তা করুন, বছর শেষে আপনার দালানটা নির্মাণের কোন অবস্থায় থাকবে? কত টাকা খরচ করে কীভাবে বানাবেন? কবে শেষ হবে আপনার দালান নির্মাণের কাজ আর কাজের মাঝে যদি কোন ঝামেলা হয় বা বাধা আসে তাহলে কি করবেন? নিজে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, উত্তর খুঁজুন আর পরিকল্পনা করুন লিখে লিখে।

আপনার জীবনকে সফল করতে, জীবনে লক্ষ্য অর্জন করতে আর জীবনের উদ্দেশ্য পুরন করতে নেমে পড়ুন আজ থেকেই। এই বছর শেষ হতে এখনও অনেকগুলো মাস, সপ্তাহ, দিন, ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড বাকি। জীবনের অনেক গুলো সময় তো নষ্ট হয়েছেই, তাই এই বছরটা হোক না লক্ষ্য পূরণের বছর। জীবনে সফল হতে এবং এমন দিকনির্দেশনা মূলক লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। আর হ্যাঁ,  লেখাটি পড়ে যদি মনে করেন এটা আপনার বা আপনার বন্ধু বান্ধব বা যে কোন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাজে আসবে তাহলে অবশ্যই লাইক কমেন্টস এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।

আপনার মন্তব্য করুন...